98 Flavor Street, Boston, 02118

Open daily 10:00 am to 11:30 pm

বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বিদেশে পড়াশোনা: আপনি কীভাবে শুরু করবেন?

Blog

প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় বসেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই একদল শিক্ষার্থী দেশের অভ্যন্তরে  বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে নামে। আরেকদল শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নেন বিদেশ পাড়ি দেওয়ার। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে অনেকেরই স্বপ্ন থাকে অনার্স কিংবা ব্যাচেলরস বাইরের কোনো দেশ থেকে করার। কিন্তু সবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও কেবল সঠিক তথ্যের কিংবা দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়ার স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। এইচএসসি পাশ করার পর যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আজকের ব্লগ তাদের জন্য। এই ব্লগে আপনারা জানতে পারবেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা, কেন বিদেশে পড়াশোনা করতে যাবেন, যেভাবে আপনার প্রস্তুতি শুরু করবেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় এসবই আজকের আলোচনার বিষয়। 

১. এইচএসসি-র পর কেন বিদেশে পড়তে যাবেন?

এইচএসসি-র পর অনেকে বাইরে পড়তে যেতে চায়। এই সময়টিই বাইরে পড়তে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। কেননা এইচএসসি পাস করার পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনার্স কিংবা ব্যাচেলর-এ অনেক স্কলারশিপ পাওয়া যায়। তাছাড়া, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, ভালো চাকরির সুযোগ, উন্নত জীবনব্যবস্থা ইত্যাদি কারণে অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী হোন। 

২. যেভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন

অনেকেই প্রস্তুতির অভাবে ভালো রেজাল্ট এবং অন্যান্য সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ হাত ছাড়া করে ফেলেন। এর জন্য প্র‍য়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা। প্রথমেই আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আপনি যে কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান তা জানতে হবে এবং পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। 

বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য কর্তৃপক্ষ আপনার সহশিক্ষা কার্যক্রম এর উপর গুরুত্ব আরোপ করে। তাই পড়শোনার পাশাপাশি আপনাকে বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।  

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় আপনার ভাষাগত দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার IELTS অথবা TOFEL স্কোর জানতে চায়। তাই এই পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি নিতে পারেন। সাধারণত এই পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদ দুই বছর থাকে। এছাড়া প্রোগ্রাম ভেদে GRE, GMAT, SAT ইত্যাদি পরীক্ষার স্কোরও জানতে চাওয়া হয়। 

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়ার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কোর্স নির্ধারণ করা। কোর্স নির্ধারনের সময় আপনাকে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, আপনি কোন বিষয়ে পড়তে চান, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কোন বিষয়ের চাহিদা বেশি, আপনি যেই দেশে যেতে চান সেখানে ঐ বিষয়ের বাজারদর কেমন, ভবিষ্যত পেশাগত জীবন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। 

আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ- সুবিধা আছে কিনা জেনে নিন। ক্রেডিট ট্রান্সফারের জন্য প্র‍য়োজনীয় কাগজপত্রগুলো ঠিক করে ফেলুন। 

৩. বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই

বিশ্ববিদ্যলয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে আপনি কোন দেশে যেতে চান তা বাছাই করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে যেই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো, কোন দেশগুলো উচ্চ শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে আছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার খরচ, ভর্তি ফি ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। 

দেশ নির্বাচনের পর এবার আপনি ঐ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে রিসার্চ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান, ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং, টিউশন ফি, বৃত্তির সুবিধা, কোর্সের মেয়াদ, পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। 

৪. আবেদন প্রক্রিয়া

আপনার পছন্দের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে ফেলুন। যেহেতু একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সময় ভিন্ন ভিন্ন তাই আবেদন করার সময় ঠিকমতো খোঁজ নিন। আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনার সাথে রাখুন। যেমন, 

  • পাসপোর্ট, 
  • জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট, 
  • জাতীয় পরিচয়পত্র, 
  • এসএসসি এবং এইচএসসি-এর ট্রান্সক্রিপ্ট, টেস্টিমোনিয়াল এবং সার্টিফিকেট, 
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি, 
  • স্টেটমেন্ট অব পারপাস(SOP) লেটার, 
  • লেটার অব মোটিভেশন, 
  • লেটার অব রিকমেন্ডেশন,
  • IELTS, TOEFL অথবা অন্যান্য ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট। 

ছবি এবং প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টের ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত করে নিতে হবে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি বিশেষ শাখা থেকে বিনামূল্যে এসব ডকুমেন্ট সত্যায়িত করা যায়। এছাড়া নোটারি পাবলিক থেকেও সত্যায়িত করা যায়। ভর্তির কাজগুলো অনলাইনে হলেও কিছু ডকুমেন্টের হার্ডকপি আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরিয়ার করে পাঠাতে হতে পারে। 

৫. এইচএসসি- র পর বিদেশে স্কলারশিপ

আমাদের দেশ থেকে বর্তমানে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এইচএসসি পাস করার পর স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই স্কলারশিপগুলো ফুল ফ্রি, কিংবা হাফ ফ্রি। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি বৃত্তি চালু আছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, রাশিয়া, চীন, আজারবাইজান, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, জার্মানি, ব্রুনাই, তুরস্কে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। 

বিদেশের টিউশন ফি বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে তা বহন করা কঠিন হয়। তাই কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীর রেজাল্ট, ভাষাগত দক্ষতা, সহশিক্ষা কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে এসব স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। 

স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো-

  • স্কলারশিপের মেয়াদ কতদিন, নবায়ন করার সুযোগ আছে কিনা।
  • স্কলারশিপের অর্থ কী কী খাতে খরচ করা যাবে
  • স্কলারশিপের অর্থে আপনার পক্ষে সেই দেশে জীবন নির্বাহ করা সম্ভব হবে কিন।
  • স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন

স্কলারশিপগুলোর জন্য আবেদনের সময় নির্ধারিত থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মাঝে এই স্কলারশিপগুলোর জন্য আবেদন করতে হয়। তাই এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আপনাকে স্কলারশিপগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া শুরু করতে হবে।

৬. স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন এবং যোগ্যতাসমূহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পেয়ে গেলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হবে। এবার আপনাকে সেই দেশের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অফার লেটারে আপনার ভর্তির সময়সীমা উল্লেখ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। নয়তো আপনার ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই আপনাকে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। 

নির্দিষ্ট দূতাবাস থেকে আপনাকে প্রথমে ভিসার আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আবেদনের সময় প্রয়োজোনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট দিনে সাক্ষাতকারে অংশগ্রহন করার মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

৭. বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুবিধা-অসুবিধা

বিদেশে পড়তে যাওয়ার অনেক সুবিধার মধ্যে একটি হলো ব্যক্তি আত্মনির্ভরশীল হতে শেখে। ব্যক্তি নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করে। এই সময় ব্যক্তি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এর মাধ্যমে সে পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়। 

বিদেশের উচভশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। এসব শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশার ফলে ব্যক্তি অনেক রকম সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সু্যোগ পায়। তাছাড়া নেটওয়ার্কিং, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভালো চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। সেই সাথে ঘুরাঘুরি, আ্যডভেঞ্চার তো আছেই। 

বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই আছে। পরিবার থেকে দূরে থাকতে প্রথম প্রথম অনেকেরই অসুবিধা হয়। নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক শিক্ষার্থীর অসুবিধা হয়। অনেকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পেরে বিপথে চলে যায়। পরিবারের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে অনেকেই অজ্ঞতাবশত ভুল পথে পা বাড়ায়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা একজন সদ্য এইচএসসি পাসকৃত শিক্ষার্থীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই যেসব শিক্ষার্থীর এইচএসসির পর বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাদের উচিৎ আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করে তোলা। বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা। আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এসব স্কলারশিপ পেতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। 

Leave a Comment

Item added to cart.
0 items - $0.00