98 Flavor Street, Boston, 02118

Open daily 10:00 am to 11:30 pm

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে অবশ্যই পরিকল্পনা করুন এই ১০টি কাজ

Blog

আপনার যদি বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে তবে এর প্রস্তুতি আপনাকে শুরু করতে হবে অনেক আগে থেকেই। অনেক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার পর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে থাকে। অনেকে আবার দেশে স্নাতক সম্পন্ন করার পর স্নাতকোত্তর কিংবা পি এইচডি সম্পন্ন করতে বিদেশে যান। তবে যখনই আপনি যান না কেন প্রস্তুতি আপনাকে পূর্বের থেকেই নিতে হবে। এই ব্লগে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে যে ১০ টি কাজ আপনাকে অবশ্যই করতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

১. বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয়, সেশন নির্বাচন করতে হবে

প্রথমেই আপনি যে দেশে যেতে চান সেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। একেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পদ্ধতি একেক রকম। আমেরিকা কিংবা কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পদ্ধতি ইউরোপের থেকে আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেক সময়ে ভর্তি নিয়ে থাকে। তাই আবেদনের শেষ দিন, খরচ, যে যে কাগজপত্র দরকার তা জেনে নিতে হবে। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন একেক সময়ে শুরু হয়। আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো সেশনে আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান কোর্স থেকে আপনার পছন্দের কোর্সটি বাছাই করে নিন।

২. সনদ-পত্র জোগাড় করা

স্নাতকে আবেদনের জন্য আপনার এসএসসি এবং এইচএসসি এর ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফিকেট এবং  ট্রান্সক্রিপ্ট জোগার করে নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে সনদপত্রের মূলকপি ডাকযোগে পাঠাতে হতে পারে।

৩. পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখা

আপনার যদি পাসপোর্ট না থাকে তবে পাসপোর্ট বানিয়ে নিন। আর যদি পাসপোর্ট থাকে তবে তার মেয়াদ চেক করে নিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট নাম্বার প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া IELTS. TOEFL, GRE, GMAT, SAT ইত্যাদি পরীক্ষায় অংশ নিতে পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট বানানোর ক্ষেত্রে নামের বানানের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। নামে গরমিল থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

৪. বিভিন্ন দক্ষতা যাচাইকরণ পরীক্ষা দিন

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য SAT, GRI, GMAT স্কোর জানতে চায়। তাছাড়া ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য IELTS, TOEFL স্কোর জানতে চাওয়া হয়৷ তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির সাথে এই পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহন করে ভালো স্কোর করার চেষ্টা করুন।

৫. LOR, SOP, LOI প্রস্তুত করা

কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থকে LOR বা লেটার অব রিকমেন্ডেশন সংগ্রহ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবেদনকৃত বিষয় আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, ভবিষ্যত গবেষণার বিষয়, আপনার আগ্রহের বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কে SOP বা স্টেটমেন্ট অব পারপাস এবং LOI বা লেটার অব ইন্টারেস্ট লিখতে হয়। এগুলো লেখার সময় নিজের মতো লিখতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে, ভবিষ্যত পরিকল্পনার আলোকে এই লেটারগুলো লিখতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে প্লেজিয়ারিসম পরিহার করতে হবে। 

৬. সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ পত্র সংগ্রহ করা

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক ক্ষেত্রে সহশিক্ষা কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া থাকে। তাই আপনার সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদপত্র সংগ্রহ করুন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার এবং অংশগ্রহনের সনদকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এই সনদগুলো আবেদনের সাথে জমা দিতে হয়। তাই এগুলো সংগ্রহে রাখতে হয়। এসব সনদগুলো আবেদনের সাথে জমা দেওয়ার সময় মূল সনদের সাথে সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়। তাই প্রত্যেকটি কপি সত্যায়িত করা জরুরি। নোটারি পাবলিক থেকে সনদ সত্যায়িত করা যেতে পারে। 

৭. ফিন্যান্স পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফিন্যান্স সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার ব্যাংক আ্যকাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ থাকলেও চেষ্টা করুন যাতে আপনার হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ থাকে। দেখে নিন আপনার ব্যাংক আ্যকাউন্ট আন্তর্জাতিক ব্যবহারের উপযুক্ত কিনা। 

৮. সঠিক ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা গ্রহন করুন

বিদেশে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্য বীমা থাকা খুবই জরুরি। যেকোনো ধরনের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে আপনার ইন্স্যুরেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আবার স্বাস্থ্যবীমা হয়তো আপনাকে সব রকমের সুবিধা দিতে পারবেনা। এর জন্য প্র‍য়োজন ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স। ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স  আপনার ফ্লাইট সংক্রান্ত, লাগেজ সংক্রান্ত, হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পেতে কিংবা যেকোনো ধরনের দূর্ঘটনার হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। 

৯. স্থানীয় ভাষা জেনে নিন

আপনি যদি এমন একটি দেশে পড়তে যান যেখানে ইংরেজি প্রধান ভাষা নয়, তবে আপনাকে সেই দেশের ভাষা সম্পর্কে অন্তত সাধারণ বিষয়গুলো জানতে হবে। যে বিষয়গুলো না জানলে স্থানীয়দের সাথে আপনার যোগাযোগ করতে অসুবিধা হবে সেই বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিন। বেশিরভাগ দেশে উচ্চশিক্ষা ইংরেজি ভাষায় প্রদান করা হলেও দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো করার জন্য তারা স্থানীয় ভাষার আশ্রয় নিয়ে থাকে। তাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত সাধারণ কিছু বাক্য জেনে রাখতে পারেন। 

১০. মানসিক প্রস্তুতি

নিজের পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধর ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে বাস করা প্রকৃতপক্ষে কষ্টকর। তবে আপনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গেছেন একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়। আপনার জন্য অসংখ্য নতুন অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। রয়েছে বিভিন্ন প্রকার চ্যালেঞ্জ, যা মোকবেলা করার মাধ্যমে আপনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ পাবেন। তাই ভয়, কষ্ট ভুলে নিজেকে নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে নিন। নতুন জীবন শুরু করার জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট মনোবল এবং পরিবার, বন্ধু বান্ধবের সহায়তা। তাই আপনার পরিবারের সাথে এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন, যাতে তারা প্রয়োজন মতো আপনার পাশে থেকে আপনাকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে। 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আপনার ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে আপনার দরকার একটি সুপরিকল্পিত ধারণা যাতে আপনি বিদেশে আপনার সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। বিদেশে পড়াশোনা আপনার জীবনে অনেক নতুন অভিজ্ঞতার সঞ্চার করবে, আপনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে এবং আপনাকে দৃঢ়ভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে। উপরের ১০ট বিষয় অনুসরণ করলে আপনার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। 

Leave a Comment

Item added to cart.
0 items - $0.00