98 Flavor Street, Boston, 02118

Open daily 10:00 am to 11:30 pm

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কী কী তথ্য আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

Blog

আপনি যখন বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিবেন তখন আপনি কেবল লেখাপড়াই শিখবেন তা নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা আপনার সম্পূর্ণ জীবন পাল্টে দিতে পারে। চিরচেনা পরিবেশের বাঁধন ছেড়ে আপনি নিজেকে আবিষ্কার করবেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতে। আপনি আত্মনির্ভরশীল হতে শিখবেন, নিজেকে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন, আপনার চিন্তার প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে। 

তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা একেবারে সহজ নয়। প্রতিদিনই আপনার জন্য অপেক্ষা করবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ, থাকবে কালচারাল শক, সেই সাথে থাকবে হোম সিকনেস। তবে এসবই অভিজ্ঞতার অংশ। এসব চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারার মাধ্যমেই আপনার বিদেশে উচ্চশিক্ষা পরিপূর্ণতা পাবে। 

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে কিছু তথ্য আপনার জানা আবশ্যক।

১. ঠিক করে ফেলুন আপনি কোথায় পড়তে চান

আপনি যখন বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার কথা চিন্তা করেন তখন পুরো  বিশ্ব আসলে আপনার হাতের মুঠোয়। পৃথিবীর অনেক দেশই উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ। তাই প্রথমেই একটা শর্ট লিস্ট করে ফেলতে পারেন আপনার পছন্দের দেশগুলোর এবং সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। এরপর দেখুন কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনার পছন্দের বিষয়গুলো পড়ানো হয়। 

আপনি যদি উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি কাজ করতে আগ্রহী হোন তবে এমন জায়গা বেছে নিতে পারেন যেখানে পড়ালেখার পাশাপাশি রয়েছে পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ। 

পছন্দের বিষয়, কাজ করার সুযোগসহ অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করার পর এবার আপনি আপনার বাজেটের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন আপনার বেছে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার খরচ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি সম্বন্ধে জেনে নিতে পারেন। 

২. কোর্স সম্বন্ধে জেনে নিন

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিভিন্ন দেশের কোর্সগুলো একটি অপরটি থেকে আলাদা। যেমন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেরকম কোর্স প্রদান করে থাকে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আলাদা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন কোন কোর্সের উপর ব্যাচেলরস, মাস্টার্স, পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করে থাকে তা ভালো করে দেখে নিন। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং জানা থাকলে এক্ষেত্রে আপনার জন্য সহায়ক হবে। এইজন্য টাইমস হায়ার এডুকেশন এর ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং দেখে নিতে পারেন।

এছাড়াও কোর্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট ট্রান্সফারের উপর গুরুত্ব দিন। এমন কোর্স পরিহার করুন যাতে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা নেই। 

৩. ফান্ডিং এবং স্কলারশিপের খোঁজ রাখুন

যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষা প্রকৃতপক্ষেই ব্যয়বহুল। এসব দেশগুলোতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ আরো বেশি। সেই তুলনায় চীনে উচ্চ শিক্ষার খরচের ক্ষেত্রে বেশ ছাড় রয়েছে। আর আইসল্যান্ড, নরওয়েতে উচ্চ শিক্ষার খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। 

আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যাল্যের সাথে স্কলারশিপ বা ফান্ডিং এর ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সুযোগ দিয়ে থাকে।

অনেক সময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই ফান্ডিং বা স্কলারশিপ জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে খরচ চালানোর জন্য অনেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্ট টাইম বিভিন্ন জব করে থাকেন। তবে কোনো কোনো দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজ করার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ থাকে। তাই স্কলারশিপ, ফান্ডিং কিংবা বিদেশি শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম জবের ব্যাপারে বিধি নিষেধগুলো ভালো করে জেনে নিন।

৪. পছন্দের প্রোগ্রামে আবেদন করুন

বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করা হলে আপনার পছন্দের প্রোগ্রামে আবেদন করে ফেলুন। যত তাড়াতাড়ি আবেদন করতে পারবেন বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনি তত বেশি সময় হাতে পাবেন। 

তাছাড়া যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত আবেদন করতে হয়। 

আপনার আবেদন সফল হয়েছে কিনা তা জানার সঠিক উপায় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা। ডিপার্টমেন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনি ভর্তি নিশ্চিত করতে পারেন। 

বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইংরেজিতে কোর্স করার সুযোগ থাকে। তবে যেসব দেশে ইংরেজি প্রথম ভাষা নয় সেসব দেশের ভাষা শেখার প্রতি জোর দিন। 

যদিও বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার রয়েছে। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ দেশের ভাষায় কোর্সগুলো পড়ানো হয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে ঐ দেশের ভাষার উপর ভালো দখল আয়ত্ত করতে হতে পারে।

৫. ভিসা আবেদন করুন

বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, আবেদন শেষ হওয়ার পর এবার ভিসা আবেদন করার পালা। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য সঠিক ভিসা বেছে নিয়ে আবেদন করুন। 

ভিসা আবেদন করার জন্য আপনি ভালো করে বিচার বিবেচনা করে নিন। ভিসা আবেদন এমনভাবে করুন যাতে আপনার পড়ার মাঝে আবার রিনিউ করতে না হয়। তাছাড়া ইমিগ্রেশনের নিয়মকানুন প্রায়শই পরিবর্তন হয়। তাই সর্বশেষ তথ্য পেতে আ্যম্বাসির ওয়েব পোর্টালে নজর রাখুন।

৬. আবাসন ব্যবস্থা

বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে থাকে। তবে এর জন্য শিক্ষার্থীদের গুনতে হতে পারে মোটা অংকের অর্থ। তবে এর চেয়েও সহজলোভ্য থাকার ব্যবস্থা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে। এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে সাহায্য করে থাকে। 

আবার আপনি আপনার পরিচিত কোনো ক্লাসমেটের সাথে লজিং এর মাধ্যমে থাকতে পারেন। তবে থাকার জায়গা আপনার ক্যাম্পাসের আশেপাশে হলেই সবচেয়ে ভালো।

৭. নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে নিন

যেকোনো নতুন জায়গায় খাপ খাইয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয় যদি আপনার সাথে পরিচিত কেউ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। যেমন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। এইসব অনুষ্ঠানে যোগ দিলে নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া অনেকটা সহজ হয়।

তাছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোগ্রামের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন। 

থাকার জায়গা ঠিক হয়ে গেলে আপনি আশেপাশের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে যুক্ত হতে পারেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যেতে পারেন। এতে অন্যদের সাথে আপনার বন্ধন দৃঢ় হবে। 

৮. বাজেট পরিকল্পনা

আপনার যদি বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকে তবে আগে আপনি কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন। অনেকেই এই ব্যাপারে গুরুত্ব দেন না। টিউশন ফি, থাকা খাওয়া বাবদ খরচ, প্রয়োজনীয় বিনোদনের জন্য আপনি যদি আগে একটি বাজেট পরিকল্পনা করে রাখেন তবে নতুন দেশে গিয়ে আপনি খরচ চালাতে কিছুটা কম হিমশিম খাবেন। 

অনেক দেশে বাসস্থানের পিছনে আপনার আয়ের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। বাজেট করা থাকলে খরচের হিসাব রাখতে সুবিধা হবে এবং বাড়তি খরচ কমানো যাবে। 

তাছাড়া আপনার অবসর সময় কাটানোর জন্যও কিছু অর্থ প্রয়োজন। তাই এর জন্য দৈনন্দিন খরচ থেকে কিছু অর্থ আলাদা করে রাখা ভালো। আর দেশে আসতে চাইলেও আপনাকে একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হবে যাতায়াতের পিছনে। তাই একটি বাজেট পরিকল্পনা করলে আপনার দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব রাখা সহজ হবে। 

৯. স্বাস্থ্য বীমা এবং ভ্রমণ বীমা করিয়ে নিন

বেশিরভাগ দেশেই স্বাস্থ্য বীমার উপর জোর দেওয়া হয়। অনেক দেশে ভিসার আবেদনের সময়ই এর উল্লেখ থাকে। আবার কিছু দেশে ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মেডিকেল চেক আপ, ভ্যাক্সিনেশন করানো বাধ্যতামূলক। তাই এসব বীমার জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে প্রস্তুত থাকুন। আপনার শিক্ষা জীবনকে বেশ আরামদায়ক করে তুলবে এসব বীমা পরিকল্পনা। 

১০. শেষবারের মতো সব গুছিয়ে নিন

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো আপনার পাসপোর্ট। তাই আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ দেখে নিন। রিনিউ করার প্রয়োজন পড়লে করিয়ে নিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সব কাগজ পত্র গুছিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করে নিন। কিছু স্থানীয় নাম্বার এবং ঠিকানা লিখে নিন যাতে যেকোনো বিপদে যোগাযোগ করতে পারেন। 

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ হয়তো আপনার জীবনে একবারই আসবে। তাই এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। পরিপূর্ণ পরিক্লপনা করে নিন আগে থেকেই। আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা থেকে শুরু করে থাকার জায়গা খোঁজা পর্যন্ত সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে ভাবুন এবং আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী ব্যবস্থাটি গ্রহন করুন। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা আপনাকে দিতে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ। তাই আপনি যদি আগ্রহী থাকেন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে তাহলে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা শুরু করুন। 

Leave a Comment

Item added to cart.
0 items - $0.00